• চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

প্রয়াত আব্দুর রব মিয়ার ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও কিছু কথা

সত্য ব্রত ভদ্র মিঠুন, অতিথি লেখক / ১২৯ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

প্রাক্তন এম.পি. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা,চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সভাপতি,মাটি ও মানুষের নেতা মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রব মিয়ার ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আবদুর রব মিয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নীতি ও আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর প্রানের প্রিয় মানুষ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সাহসী চেতনা ও দিকনির্দেশক। রব ভাইয়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে তার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, সমবেদনা জানাই তার রেখে যাওয়া পরিবার পরিজন, রাজনৈতিক নেতা কর্মী,শুভাকাঙ্ক্ষী সকলকে। রব ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে এরপূর্বে বহুবার আমার স্মরণীয় অনেক কিছু তুলে ধরেছি। রব ভাই ছিল আওয়ামী রাজনীতিতে একজন সাধারন পরিবারের সদস্য হিসাবে আমার অংশগ্রহণ করার দুরন্ত সাহস। তখন ছিল স্বৈরাচারী শাসন। মামলা, হামলা, জেল, জুলুম অত্যাচার, নির্যাতন, মৃত্যুভয় নিয়ে তখন আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হতো। রব ভাইয়ের সাহসে বলিয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম ও স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনীর অস্ত্র, বোমা, দা, কুড়াল ছেনি, চাকু, পুলিশি মিথ্যা মামলা হামলা বিডিআরের এলএমজির সামনে আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলা করে আমরা হাজিগঞ্জ চাঁদপুর ঢাকার রাজপথে যেকোনো সমস্যাকে তুচ্ছ মনে করে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পরতাম। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে আমি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দী। একদিন সকাল বেলা রব ভাই চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ সহ চাঁদপুর জেলে আমাকে দেখতে যান। আমি দ্বিতীয় তলায় থাকতাম। আমার ওয়ার্ডের মিনু মোল্লা ভাই আমাকে বলল আপনার নেতা আপনাকে দেখতে এসেছে। আমি তৎক্ষণাৎ মহানন্দে জেলার সাহেবের অফিসের দিকে ছুটলাম। জেলের বড় গেট পেরিয়ে বাঁ দিকে মোড় দিলেই জেলার সাহেবের অফিস। আমি এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলাম রব ভাই সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জেলার সাহেবের অফিসে চেয়ারে বসা। জেলার সাহেব সামনে বসা। রব ভাইকে সালাম দেওয়া মাত্র তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেমন আছি। জেলার সাহেব বললেন জেলখানায় একজন রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে যে সুবিধা পাওয়া দরকার তিনি তা পাচ্ছেন। এরপর রব ভাই কাছে নিয়ে বললেন কোন ভয় নেই আমি তো আছি, পিতৃস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন জেল হলো রাজনীতির সিঁড়ি। আজ থেকে তুমি নেতা। জেলখানায় আমার জন্য রব ভাইয়ের নেওয়া বিভিন্ন জিনিস আমি অনেকদিন খেয়ে ব্যবহার করে শেষ করতে পারিনি। রব ভাই যখন এমপি তখন আমরা একদিন বিকেলে ধানমন্ডি ৫ নং রোডের বাসায় গেলাম। উদ্দেশ্য প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শহীদ শেখ রাসেলের একটি ছবি যেন আমাদেরকে তিনি নিয়ে দেন। সবকিছু জেনে তিনি বললেন তোমরা এমন একটা বিষয় এসেছ নেত্রী শহীদ রাসেলের বিষয়ে অনেক দুঃখ কষ্ট নিয়ে আছেন। এরপর বললেন চল আমরা যাই নেত্রী তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে থাকতেন। নেত্রীর সাক্ষাৎ পেয়ে রব ভাই আমরা ৩২ নম্বর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং শেখ রাসেলের একটি ছবি যাতে আমরা পাই এ বিষয়ে নেত্রীকে বুঝিয়ে বললেন। নেত্রী অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর আমাদেরকে শহীদ শেখ রাসেলের বিষয়ে অনেক কিছু জানতে চাইলেন। আমরা বিনয়ের সাথে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ সংগঠন করার উদ্দেশ্য সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। নেত্রী আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম ভাইকে আঁকাবাঁকা স্টুডিও থেকে শহীদ শেখ রাসেলের রিক্সার উপরে বসা একটি ছবি ব্যবস্থা করে দিতে বললেন। পরবর্তীতে নেত্রীর স্বাক্ষরিত ছবি আমরা পেয়েছি। ওই সময়ে আমার সাথে ছিল প্রয়াত মজিবুর রহমান লাকি, তরুণ সাহা এবং বর্তমান আওয়ামীলীগ নেতা রাধেশ্যাম হালদার। রব ভাই আজ আপনি নেই, জনগনের কল্যানে আপনার দীর্ঘ জীবনের আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম, সহায় সম্বল হারিয়ে তিলে তিলে গড়ে যাওয়া হাজিগঞ্জ আওয়ামী লীগ আজ নীতি-আদর্শের চু্্যতির পথে। জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়ন ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশ পালনে আওয়ামী লীগের যে সকল নেতাকর্মীরা জেল জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, রক্ত ঘাম হাসি মুখে বিলিয়ে দিয়েছে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পেছনে। আপনার হাজার হাজার কর্মীর বিরাট অবদান। এখানে এখন আওয়ামী লীগের নির্যাতিত কর্মীদের বুকের উপর পা রেখে ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধীদের বিভিন্ন ব্যাপারে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মুজিব আদর্শের সৈনিক প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতির জনক প্রিয় নেত্রীর আওয়ামীলীগ। আপনার রেখে যাওয়া সেই আওয়ামীলীগ এখানে এখন নেই। এখন নতুন অচেনা অজানা গন্তব্যের আওয়ামী লীগ। খুব বেশি সময় নেই আপনার রেখে যাওয়া মজিব সৈনিকরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে আপনার চিন্তা চেতনা অনুযায়ী গর্জে উঠবে। মূল্যায়িত সম্মানিত হবে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার বিশ্ব মানবতার মা শেখ হাসিনার কর্মীরা। পরপারে অনেক ভাল থাকবেন প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত ঘনিষ্ঠ সহচর, চাঁদপুরের বঙ্গবন্ধু প্রিয় রব ভাই, আমরা এগিয়ে যাব আপনার রেখে যাওয়া অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় চেতনায়।
মিঠুন ভদ্র।
প্রাক্তন সভাপতি
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।
(১৯৯২ ইং)
হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর।

আপনার মতামত লিখুন


এ জাতীয় আরো খবর..

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১