• চাঁদপুর, বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
ব্রেকিং নিউজ

ইসলাম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক / ১১১ বার পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১

ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ। ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একদিকে ভারতে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার দাবি, অপরদিকে দ্বিজাতি তত্ত্ব বা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক স্লোগান তোলে পাকিস্তান কায়েমের দাবি। পরিশেষে দ্বিখণ্ডিত উপমহাদেশ। তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্বের নাগপাশ থেকে আমরা বাঙালিরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছি।

১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা পবিত্র ইসলামের নামে পাকিস্তানি শাসক চক্রের অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ায় এবং উল্লিখিত চারটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত সংগ্রামের যৌথ চেতনা ও মূল্যবোধকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নামে অভিহিত করি। আর সে মূল্যবোধ হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক। তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্বের আলোকে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মকে রাজনীতি ও শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। এটাই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকালে রাষ্ট্রীয় মূল নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। সংবিধানের প্রস্তাবনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদগণকে প্রাণ উৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল…সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’

মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের ইতিহাসে ইসলাম ধর্ম একটি বিপ্লব। অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও বঞ্চনায় জর্জরিত সমাজে এক বৈপ্লবিক জীবনব্যবস্থা নিয়ে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব। আমাদের মহানবী (সা.) অমুসলিমরা অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত হলে তাদের দেখতে যেতেন এবং যথাসাধ্য সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতেন। আনাস (রা.) এক প্রসঙ্গে বলেন, নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে এক ইহুদি দাস কাজ করত। একদিন সেই ইহুদি দাস ভীষণ অসুস্থ হলে মহানবী (সা.) তাকে দেখতে তার বাড়িতে যান। মহানবী (সা.) তার মাথার দিকে বসে অসুখের খোঁজ-খবরের পাশাপাশি তাকে (দাসকে) ইসলামের দাওয়াত দেন। সে সময় দাস তার পিতার দিকে তাকালে পিতা তাকে বলেন, তুমি মুহাম্মদ (সা.)-কে অনুসরণ করো এবং দাস ইসলাম গ্রহণ করল। তখন মহানবী (সা.) বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন। (বুখারি)

মহানবী (সা.) অমুসলিমদের প্রতি জীবিত অবস্থায় যেমন হক আদায় করেছেন, তেমনি তাদের মৃত্যুর পরও হক আদায়ে দৃঢ় সচেষ্ট ছিলেন। আমাদের মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মানবজাতির সবাই আদম (আ.)-এর সন্তান এবং আরবদের ওপর অনারবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি কালোর ওপর সাদা, সাদার ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’

ধর্ম মানুষের হৃদয়-আত্মার সেই বিশ্বাস-শক্তি, যা তার মধ্যে বিশেষ জীবনবোধের জন্ম দেয়। মানুষের যাতে ইহজগৎ ও পরজগতের জীবন সুখময় হতে পারে, সে জন্যই ধর্মের আবির্ভাব। কোনো ধর্ম মানুষকে মিথ্যা বলতে, অন্যায় পথে পা বাড়াতে, অপরকে ঘৃণা করতে, কারো ক্ষতি করতে, অন্যের সুনাম নষ্ট করতে শিক্ষা দেয় না। জীবনে ধর্ম বিশ্বাসের মূর্ত প্রতিফলন ঘটে ন্যায়-অন্যায়ের বিবেচনা, অপরের কল্যাণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। হাদিসে বর্ণিত আছে, একদিন মহানবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে এক ইহুদির লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়ে যান, তখন সঙ্গে থাকা সাহাবি তাঁকে প্রশ্ন করেন, আপনি কেন দাঁড়ালেন? এটা তো ইহুদির লাশ! তখন মহানবী (সা.) বলেন, ‘সে কি মানুষ নয়?’ (বুখারি)

পবিত্র কোরআন মুসলমানদের পথনির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তা সত্ত্বেও পবিত্র কোরআনের বহু প্রসঙ্গে গোটা মানবজাতিকে লক্ষ্য করে যেসব উপদেশ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে ‘মানুষ’ শব্দটি ৬৫ বার, মানবকুল শব্দটি ২৪০ বার উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের সেসব প্রসঙ্গে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

সূত্র : কালের কন্ঠ

E/N

আপনার মতামত লিখুন


এ জাতীয় আরো খবর..

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১